রায়পুরা নির্বাচন অফিসের দুই অপারেটর এনআইডির তথ্য বিক্রি করতেন!

গত কয়েক মাসে তাদের বিকাশ নম্বরেই ১৪ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা নির্বাচন অফিসের দুই অপারেটরের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বিক্রির অভিযোগে তাদের পুলিশে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন স্ক্যানিং অপারেটর আশিকুল আলম ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নাহিদুল ইসলাম।

বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান রায়পুরা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ রাসেল।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে রায়পুরা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দ্বীন মোহাম্মদ রাসেল বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য বিক্রির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের আইডিইএ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আইটি পরিচালক উইং কমান্ডার সাদ ওয়ায়েজ তানভীরকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার তদন্ত কমিটি সদস্যরা সরেজমিনে রায়পুরা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে এসে অভিযোগের সত্যতা পান।

তদন্ত কমিটির প্রধান উইং কমান্ডার সাদ ওয়ায়েজ তানভীর জানান, ‘অভিযুক্ত আশিক আলম ও নাহিদুল ইসলাম এনআইডি তথ্য বিক্রির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের বিকাশ নম্বর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে ১৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে আশিকুল আলমের বিকাশ নম্বরেই ১২ লাখ টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন ও গোপন তথ্য হস্তান্তর করতেন। এতে অসাধু উপায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো তথ্য পাওয়া গেছে। যা পরবর্তী সময়ে তদন্ত করা হবে বলে জানান তদন্ত কমিটির প্রধান সাদ ওয়ায়েজ তানভীর।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা দ্বীন মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমি নিজেই বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করব। এরইমধ্যে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও খবর